বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৪

নারীদের জরায়ু নেমে আসার (Prolapsed Uterus) কারণ, লক্ষণ এবং চিকিত্সা

নারীদের জরায়ু সংক্রান্ত রোগসমূহের মধ্যে "জরায়ু নেমে আসার" সমস্যাটি অন্যতম । দেখা যায়, এই রোগটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটি বা একাধিক সন্তান জন্মের জন্য হয়ে থাকে । এক্ষেত্রে জরায়ু প্রায় সবটাই যোনির মধ্যে ঝুলে পড়ে । বাইমেনুয়াল পরীক্ষাতে একটি আঙ্গুল প্রবেশ করালেই এই রোগ অনেকটা বুঝতে পারা যায় । এই রোগের নিশ্চিত আরোগ্যকারী চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে।
 
নারীদের জরায়ু নেমে আসার কারণসমূহ :- বিভিন্ন কারণে জরায়ু নেমে আসতে পারে যথা :
  • জন্মগত কারণে এই রোগ দেখা দিতে পারে এবং ইহা যোনির আগমনের সঙ্গেই বুঝতে পারা যায় ।
  • কখনো কখনো ব্লাডার নিচের দিকে নেমে আসে বলে তার সাথে জরায়ুও নেমে আসে । একে বলে Cystoceled.
  • কখনো কখনো রেক্টাম নিচের দিকে নেমে আসে বলে তার সাথে জরায়ুও নেমে আসতে পারে । একে বলে Rectocele.
  • কোন কোন ক্ষেত্রে অধিক সন্তান ধারণের ফলে জননেন্দ্রিয়ের বিভিন্ন অংশ ঢিলে হয়ে যায় এর ফলে জরায়ুর লিগামেন্টগুলি ঢিলে হয়ে যায় এবং নিচের দিকে নেমে আসে ।
  • জরায়ুর স্থানচ্যুতি হলে এই রোগ দেখা দিতে পারে। কোনো কোন সময় দেখা যায় যেসব নারীরা অনবরত আমাশয়, উদরাময় ইত্যাদি রোগে ভুগে থাকে তাদের এই রোগটি প্রকাশ পায়।
নারীদের জরায়ু নেমে আসার লক্ষণসমূহ :- এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর কোমরে এবং পিঠে বেদনার লক্ষণ দেখা দেয়। অনেক সময় প্রদাহ ভাবের সৃষ্টি হয় এবং প্রদাহ বেশি হলে জ্বরও আসতে পারে। যদি জরায়ু অধিক পরিমান নেমে আসে তবে রোগীর পায়খানা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক সময় পেলভিক ক্যাভিটিতে সেপটিক হতে পারে এবং ধীরে ধীরে তা ক্যান্সারের রূপ নিতে পারে। জরায়ু অধিক পরিমান নিচে নেমে আসলে যৌন মিলনে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। জরায়ু কতটা পরিমান নেমে আসে তার একটা মোটামুটি মাত্রা রয়েছে এবং সেই মাত্রা অনুসারে এই রোগ লক্ষণটিকে তিনভাবে ভাগ করা যায় যথা :
  • প্রথম ডিগ্রী :- সামান্য নেমে আসা অর্থাৎ ১/৪'' পর্যন্ত নেমে আসা।
  • দ্বিতীয় ডিগ্রী :- অনেকটা বেশি নেমে আসা অর্থাৎ ১" পর্যন্ত নেমে আসা।
  • তৃতীয় ডিগ্রী :- প্রায় সবটাই নেমে আসা অর্থাৎ ২" -- ২.১/৪" পর্যন্ত নেমে আসা অথবা তার চেয়ে বেশি নেমে আসা।
নারীদের জরায়ু নেমে আসার সমস্যায় তৃতীয় ডিগ্রীই মারাত্মক। তবে অন্য দুটি ক্ষেত্রেও নারীরা বেশ জটিলতায় ভুগে থাকেন। এই রোগের যেকোনো অবস্থায় যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে সমস্যাটি সমূলে নির্মূল হয়ে যায়। তবে রোগ ধরা পরার সাথে সাথেই সময় নস্ট না করে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে যথাযথ চিকিত্সা নেয়া উচিত। তাতে যাবতীয় উপসর্গগুলি দূর হয়ে রোগিনী খুব তাড়াতাড়িই এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করেন।

আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ঢাকা

Dr. Abul Hasan; DHMS (BHMC)
Bangladesh Homoeopathic Medical College and Hospital, Dhaka
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল: adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

Back to Top