রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৩

মেয়েদের প্রস্রাবে সংক্রমণের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ

বলা চলে মেয়েদের শারীরিক গঠনের জন্যই সাধারণত তারা প্রস্রাবের সংক্রমণে পুরুষদের তুলনায় কিছুটা বেশি ভুগে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির পর থেকে বৃদ্ধ বয়সের যেকোনো সময় মেয়েদের এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূল উৎস হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা, পায়ুনালী, ঘন ঘন কৃমি কর্তৃক সংক্রমণ। আবার সহবাসের কারণেও মূত্রনালীতে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। মেয়েদের মূত্রনালী খুবই ছোট এবং মূত্রনালীর দ্বার, যোনিদ্বার ও মলদ্বার এত কাছাকাছি বলে জীবাণু সহজেই ঢুকে যেতে পারে। প্রস্রাব সংক্রমণের জীবাণু ই-কলাই মলের সাথে নির্গত হয়ে মলদ্বার থেকে মূত্রদ্বারের আশপাশের কোষকলায় বসতি স্থাপন করে এবং সুযোগ বুঝে মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে প্রস্রাবে সংক্রমণ ঘটায়।
মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে মল মূত্রদ্বারের সংস্পর্শে আসে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জ্ঞানের অভাবে জীবাণু মূত্রনালীতে ঢুকে পড়ে। মেয়েদের বয়স বাড়ার সাথে এর সংক্রমণের হারও বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে যৌনক্রিয়া থেকে। সহবাসের পর জীবাণু মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে। প্রস্রাবের মধ্যে এরা অতি দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় ও প্রদাহের সৃষ্টি করে।

মেয়েদের প্রস্রাবে সংক্রমণের কারণ :- শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ করে ই-কোলাই। অন্যগুলোর মধ্যে প্রোটিয়াস, কেবসিয়েলা, সিউডোমনাস অন্যতম।

মেয়েদের প্রস্রাবে সংক্রমণের লক্ষণ :- এ ক্ষেত্রে নানা প্রকার উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে। তার মধ্যে যে গুলি বেশি দেখা যায় সেগুলি হলো :
  • প্রস্রাবে ভীষণ জ্বালাপোড়া করা
  • বারবার প্রস্রাবে বেগ হওয়া
  • প্রস্রাবের রঙ হলুদ হওয়া
  • ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া
  • প্রস্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ও পরিমাণে কম হওয়া
  • তলপেটে ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • জ্বর আসা
প্রদাহ তীব্র হলে কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। তখন সমস্যা তীব্রতর হতে পারে।
  •  জ্বর কেঁপে আসা
  • রক্তবর্ণ প্রস্রাব হওয়া
  • নাভির ওপরে পেছন দিকে দু’পাশে তীব্র ব্যথা হওয়া
  • বমি বমি লাগা
  • প্রস্রাব খুব কম হওয়া বা কয়েক ঘণ্টা প্রস্রাব না হওয়া।
গর্ভবতীদের প্রস্রাবে প্রদাহ :- জীবাণুসংক্রমণ না-ও হতে পারে। বারবার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ইউরেথ্রাল সিনড্রোম :- খুব ঘন ঘন প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়। প্রস্রাব পরীক্ষায় শুধু পাস-সেল পাওয়া যায়। তলপেটে ব্যথা থাকে।
হানিমুন সিস্টাইটিস :- বিয়ের পর সহবাসের সাথে সম্পর্কিত প্রদাহকে হানিমুন সিস্টাইটিস বা মধুচন্দ্রিমা মূত্রসংক্রমণ বলা হয়।

রোগ নির্ণয় :- রোগের বিস্তারিত ইতিহাস, লক্ষণ, উপসর্গ ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাহায্যে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা, কালচার করে জীবাণু নির্ণয় করা হয়। এ কালচার করার দু’টি দিক আছে, একটি জীবাণু বিঘ্নিতকরণ ও অপরটি এই বিঘ্নিত জীবাণুটির বিরুদ্ধে সঠিক ওষুধ বাছাই করা।

এমন অনেক মহিলা আছেন, যাদের প্রায়ই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার উপসর্গ থাকে এবং এদের প্রস্রাব পরীক্ষা করলে শুধু শ্বেতকণিকা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রস্রাব কালচার করলে কোনো জীবাণু পাওয়া যায় না, আর যদি জীবাণু পাওয়াও যায় তার পরিমাণ খুবই কম থাকে। মহিলাদের এ অসুবিধাকে ইউরেথ্রাল সিনড্রোম বলা হয়। বর্তমানে এ ইউরেথ্রাল সিনড্রোম সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা গেছে, এর শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে সত্যিকারের কোনো প্রদাহ থাকে না। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাকি ৭০ ভাগ সত্যিকারের প্রদাহ থাকে। যার কারণ রেচনতন্ত্রের যক্ষ্মা, টিউমার ইত্যাদি। এ ছাড়া ছত্রাক ও কামাইডিয়া কর্তৃক এই প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। কোনো রকম জটিলতা ছাড়াও মেয়েদের বারবার প্রদাহ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যথাযথ হোমিও চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

প্রতিরোধ  করতে করণীয়সমূহ :-
  • প্রতিদিন প্রচুর পানি (১০-১২ গ্লাস) পান করতে হবে
  • কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা উচিত নয়
  • প্রতি দুই-তিন ঘণ্টায় একবার প্রসাব করা উচিত
  • সহবাসের পর প্রস্রাবের রাস্তা ধুয়ে ফেলা উচিত
ব্যক্তিগত ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। প্রস্রাবের পর টিসুপেপার দিয়ে সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করতে হবে। পরে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে। সহবাসের আগে প্রস্রাবের রাস্তা ও যোনিদ্বার ভালোভাবে ধুয়ে নিলে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এ সমস্যায় কিছু জটিলতা রয়েছে যেমন - খুব তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহে কিডনি আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হতে যেতে পারে। কিডনিতে যক্ষ্মাও হতে পারে। তাই সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়েই অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিন। মেয়েদের প্রস্রাবে সংক্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যাবলী প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্টে সমূলে দূর হয়ে যায়।

মেয়েদের প্রস্রাবে সংক্রমণের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
বলা চলে মেয়েদের শারীরিক গঠনের জন্যই সাধারণত তারা প্রস্রাবের সংক্রমণে পুরুষদের তুলনায় কিছুটা বেশি ভুগে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি...

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

যৌন ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, কিডনি, হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, পাইলস, IBS, পুরাতন আমাশয়সহ সকল ক্রনিক রোগে হোমিও চিকিৎসা নিন।

১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।

পুরুষদের যৌন সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা

  • শুক্রতারল্য এবং অকাল বা দ্রুত বীর্যপাত
  • প্রস্রাবের সাথে ধাতু ক্ষয়, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
  • পায়খানার সময় কুন্থনে বীর্যপাত
  • পুরুষাঙ্গ দুর্বল বা নিস্তেজ এবং বিবাহভীতি
  • রতিশক্তির দুর্বলতা এবং দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা
  • বিবাহপূর্ব হস্তমৈথন ও এর কুফল
  • অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ সমস্যা
  • বিবাহিত পুরুষদের যৌন শিথিলতা
  • অতিরিক্ত শুক্রক্ষয় হেতু ধ্বজভঙ্গ
  • উত্তেজনা কালে লিঙ্গের শৈথিল্য
  • সহবাসকালে লিঙ্গ শক্ত হয় না
  • স্ত্রী সহবাসে পুরুপুরি অক্ষম

স্ত্রীরোগ সমূহের কার্যকর হোমিও চিকিৎসা

  • নারীদের ওভারিয়ান ক্যান্সার
  • জরায়ুর ইনফেকশন ও ক্যান্সার
  • নারীদের জরায়ুর এবং ওভারিয়ান সিস্ট
  • ফলিকুলার সিস্ট, করপাস লুটিয়াম সিস্ট
  • থেকা লুটেন, ডারময়েড, চকলেট সিস্ট
  • এন্ডোমেট্রোয়েড, হেমোরেজিক সিস্ট
  • পলিসিস্টিক ওভারি, সিস্ট এডিনোমা
  • সাদাস্রাব, প্রদর স্রাব, বন্ধ্যাত্ব
  • ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক
  • জরায়ু নিচের দিকে নামা
  • নারীদের অনিয়মিত মাসিক
  • ব্রেস্ট টিউমার, ব্রেস্ট ক্যান্সার

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন