রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৩

মহিলাদের ঋতুস্রাব সম্পর্কিত সমস্যাবলী নিরাময়ে হোমিওপ্যাথি

নারীদের বেশ কয়েক রকমের ঋতুস্রাবের অনিয়মিততা হয়, অল্প সময়ের সাধারণ ঋতুস্রাবের সমস্যা থেকে শুরু করে আরো দীর্ঘ সময়ের ঋতুস্রাবের সমস্যার জন্য গুরুতর অসুস্থতারও সৃষ্টি হয়ে থাকে । নিচে ঋতুস্রাবের অনিয়মিততা সম্পর্কে বিশদ আলোকপাত করা হলো যা আপনাকে বিভিন্ন ঋতুস্রাব চক্রে অনিয়মিততার মাত্রা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।
ডিসমেনোরিয়া :- ডিসমেনোরিয়া হচ্ছে যন্ত্রণাদায়ক স্রাবকালীন খেঁচুনি। দুই রকমের ডিসমেনোরিয়া আছে, প্রাথমিক ডিসমেনোরিয়া এবং পরবর্তী ডিসমেনোরিয়া। প্রাথমিক ডিসমেনোরিয়া হচ্ছে স্রাবের সময়ে যন্ত্রণা। প্রাথমিক ডিসমেনোরিয়া হচ্ছে ঋতুস্রাব হওয়া মহিলাদের জন্য সবচাইতে প্রচলিত স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা। এটার সংজ্ঞা হচ্ছে, পেলভিক রোগ না থাকা সত্বেও স্রাব শুরু হওয়ার সাথে সাথে তলপেটে খেঁচুনিকর যন্ত্রণা। এটাকে পরবর্তী ডিসমেনোরিয়া থেকে আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে যা পেলভিক প্যাথলজি থেকে হওয়া, যেমন এন্ডোমেট্রিওসিস, যন্ত্রণাদায়ক স্রাবকে বোঝায়।

এটা হওয়ার মাত্রা ৯০% পর্যন্ত। বেশী মাত্রায় ডিসমেনোরিয়ার সাথে গুরুতর ঝুঁকি জড়িত: অল্প বয়সে প্রথম ঋতুস্রাব, অনেকদিন ধরে স্রাব, স্থূলতা এবং মদ্যপান। ওজন কমানোর চেষ্টাও বেশী যন্ত্রণাদায়ক স্রাবের সাথে জড়িত মনে করা হয়। শারীরিক পরিশ্রম যন্ত্রণার সাথে জড়িত নয়। সন্তান ধারণের পরে স্রাবকালীন যন্ত্রণা কমে যায় বলে ধারণার পেছনে কোন গবেষণা নেই। পরবর্তী ডিসমেনোরিয়া হচ্ছে এমন যন্ত্রণা যা অতিরিক্ত প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনস্, জরায়ুর অতিরিক্ত সংকোচন বা অন্য কোন রোগ থেকে হয়।

এ্যামেনোরিয়া :- ঋতুস্রাব না হওয়াকে এ্যামেনোরিয়া বলে। এ্যামেনোরিয়া দুই রকমের হয়, প্রাথমিক এ্যামেনোরিয়া এবং পরবর্তী এ্যামেনোরিয়া। প্রাথমিক এ্যামেনোরিয়া হচ্ছে এমন একটা অবস্থা যখন একজন মহিলার কখনোই রজঃস্রাব হয় নি। পরবর্তী এ্যামেনোরিয়া হচ্ছে এমন অবস্থা যখন অন্ততঃ ছয় মাস কোন ঋতুস্রাব হয় নি। পরবর্তী এ্যামেনোরিয়া সাধারণতঃ গর্ভাবস্থার জন্য হয়। এ অবস্থায় অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

মেনোরেজিয়া :- মেনোরেজিয়া হচ্ছে অতিরিক্ত রজঃস্রাব হওয়া। মেনোরেজিয়াকে হাইপারমেনোরিয়া-ও বলা হয়। স্বাভাবিকের থেকে বেশী রজঃস্রাবকে মেনোরেজিয়া বোঝায় না। খুব বেশী রক্তপাত বা সাত দিনের বেশী রক্তপাত হতে থাকলে তাকে বোঝায়। মেনোরেজিয়ার সাথে বড় জমা রক্ত সহ রজঃস্রাবও হতে পারে। হরমোনের অসাম্যতা বা গর্ভাশয়-সম্বন্ধীয় ফাইব্রয়েড এর কারণে প্রায়শই এটা হয়।

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্‌সার :- জরায়ুর ঝিল্লীতে ক্যান্‌সারকে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্‌সার বলে। সাধারণত এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্‌সারে যোনিনালী দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত হয়। এটা একটা গুরুতর অসুস্থতা, কিন্তু তাড়াতাড়ি ধরা পড়লে সফলভাবে চিকিত্‌সা সম্ভব। এটা ৫০ বছর বয়সের উপরের মহিলাদের মধ্যে প্রচলিত অথবা যেসব মহিলার এস্ট্রোজেনের মাত্রা অধিক।

ফাইব্রয়েডস্ :- ফাইব্রয়েডস্ হচ্ছে জরায়ুর মাংসপেশীর দেওয়ালে কিছু বৃদ্ধি। এগুলো বিভিন্ন আকারের হতে পারে এবং খুব ছোট বা বড় হতে পারে। কিছু মহিলার ফাইব্রয়েডের কোন অভিলক্ষণ দেখা যায় না। অন্য অনেক মহিলা আছে যাদের খুব বেশী রক্তপাত এবং স্বাভাবিকের থেকে লম্বা সময় ধরে হয়। ফাইব্রয়েড নিম্ন পেলভিক এলাকায় ব্যথার কারণ হতে পারে, যৌন সংযোগের সময় ব্যথার কারণ হতে পারে, সবসময় প্রস্রাবের তাগিদ হতে পারে, পায়খানার চাপ থাকতে পারে এবং কোষ্ঠবদ্ধতা হতে পারে। যেসব মহিলার ৩৫ বছরের উপর বা অনেকবার গর্ভাবস্থা হয়েছে, তাদের ফাইব্রয়েড হওয়ার ঝুঁকি বেশী।

পেলভিক প্রদাহজনক রোগ :- পেলভিক প্রদাহজনক রোগ(বা পিআইডি) একটা সংক্রমণ যা মহিলাদের জনন অঙ্গের কিছু অংশে হয়। পিআইডি-র একটা লক্ষণ হল যোনিনালী থেকে দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষরণ। এটার সাথে অনিয়মিত রজঃস্রাব বা যৌনক্রিয়ার সময় যন্ত্রণা হতে পারে। পিআইডি-র সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হচ্ছে যৌন রোগের সংস্পর্শে আসা। পিআইডি একটা গুরুতর অসুস্থতা যা ফ্যালোপিয়ান টিউবের ক্ষতি করতে পারে এবং পরবর্তীকালে গর্ভধারণ রোধ করতে পারে।

প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম :- প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম হচ্ছে কিছু লক্ষণের নাম যেগুলো রজঃস্রাবের ৭ থেকে ১৪ দিন আগে হতে পারে এবং কখনও কখনও স্রাব শুরু হওয়ার পরে কয়েকদিন থাকতে পারে। অনেক মহিলারাই বিভিন্ন মাত্রায় প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম অনুভব করে। যাই হোক, কিছু মহিলার রজঃস্রাব কালের এই সময়ে তীব্র ব্যথা বা আবেগজনিত সমস্যা হতে পারে।

তাড়াতাড়ি রজঃস্রাবের সমস্যার নির্ণয় :- রজঃস্রাবের সমস্যা নির্ণয়ের জন্য হোমিও ডাক্তারা বেশ কিছু পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। তার মধ্যে অন্তর্গত হতে পারে পেলভিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং একটা আল্ট্রাসাউন্ড। রজঃস্রাবের সমস্যা যা একবারই হয়েছে বা অনেকদিন হয় নি, অনেক দিন পর্যন্ত অনির্ণীত থেকে যেতে পারে বা যতদিন না অনেক দিনের জন্য রজঃস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়।

রজঃস্রাবের সমস্যার  চিকিত্সা:- নারীদের রজঃস্রাবের সমস্যার কার্যকর হোমিও চিকিত্সা অনেকটাই নির্ভর করে সমস্যাটির ধরন এবং তার স্থায়ীত্বের উপর । একটি বিষয়ে সকল মা বোনদের আশ্বস্থ করতে চাই - অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে যথাযথ চিকিত্সা নিলে মহিলাদের ঋতু অর্থাৎ মাসিক সংক্রান্ত যাবতীয় জটিল রোগ-ব্যাধি বা সমস্যাবলী একবারে মূল থেকে নির্মূল হয়ে যায় এবং অল্পদিনের প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্টেই রোগিনী পুরুপুরি আরোগ্য লাভ করে থাকেন। 

আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ঢাকা

Dr. Abul Hasan; DHMS (BHMC)
Bangladesh Homoeopathic Medical College and Hospital, Dhaka
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল: adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

Back to Top